বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার জর্জ ক্যাম্বল এর আমলে মাদ্রাসা সংস্কার কমিটি এর অনুমোদনে মহসিন ফান্ডের টাকায় ১৮৭৪ সালে কলকাতার আলিয়া মাদ্রাসার মডেলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে তিনটি নতুন মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়।যদিও হাজী মোহাম্মদ মহসিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নবপ্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাগুলির নাম দেয়া হয় মহসিনিয়া মাদ্রাসা। তথাপি ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা বহুল পরিচিতি লাভ করে ঢাকা মাদ্রাসা নামে।বৃটিশ শাসনামলে বাংলাদেশে এগুলো ছিল মুসলমানদের জন্য করা প্রথম সরকারি প্রতিষ্ঠান।
এই মাদ্রাসার প্রথম সুপারিন্টেন্ডেন্ট ছিলেন পন্ডিত ও ভাষাবিদ বাহারুল উলুম মাওলানা ওবায়দুল্লাহ আল ওবায়দী সোহরাওয়ার্দী। ১৯১৫ সাল পর্যন্ত হাজী মোহাম্মদ মহসিন ফান্ড থেকে এই মাদ্রাসার ব্যয় নির্বাহ করা হয়।উক্ত সালে এটি পূর্ণ মাদ্রাসায় রুপান্তরিত হয়।
১৯১৫ সালের ১৬ নভেম্বর এক সরকারি আদেশে মাদ্রাসার ব্যয়ভার বহন করার দ্বায়িত্ব বাংলার সরকারের উপর ন্যস্ত করা হয়।১৮৮০ সালে প্রথম অধ্যক্ষ মাওলানা ওবায়দুল্লাহ আল ওবায়দীর তত্বাবধানে মুসলিম স্থাপত্যরীতি অনুযায়ী মাদ্রাসা ভবন তৈরি করা হয়।
মাদ্রাসায় সাতটি শ্রেণি ছিল। আরবী বিভাগে শুধু আরবী শিক্ষার্থীরা পড়ত।ইংরেজি বিভাগে (পরবর্তীতে এ্যাংলো পারসিয়ান বিভাগ)ইংরেজি শিক্ষার্থীরা পড়ত।১৮৮৩ খ্রীস্টাব্দের মধ্যে মাদ্রাসার ৩৩৮ জন ছাত্রের মধ্যে ২০২ জন ছাত্রই ছিল এ্যাংলো পারসিয়ান বিভাগের। ১৯১৫ সালে সরকার কতৃক অন্যান্য মাদ্রাসার মতো নিউ স্কিম পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর প্রেক্ষিতে "ঢাকা মাদ্রাসা হাই মাদ্রাসা" হয়।
১৯১৬ সালে মাদ্রাসার এ্যাংলো পারসিয়ান বিভাগটি পৃথক হয়ে "ঢাকা গভ. মুসলিম হাই স্কুল " নাম ধারণ করে। এটি ১৮৭৪ খ্রীস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯১৬ সালে এটির উর্দু ও ফারসি বিভাগ বন্ধ করে এটিকে বিদ্যালয়ে রুপান্তর করা হয়।এটি ঢাকার সতন্ত্র মুসলমানদের শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।বিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করার পিছনে বৃটিশ লর্ড ডাফরিনের নাম অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।সে কারণেই প্রথম ঢাকা মাদ্রাসা নামে যে ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়, সেই ভবনটি লর্ড ডাফরিনের নামানুসারে ডাফরিন মুসলিম হোষ্টেল করা হয়।উল্লেখ্য লর্ড ডাফরিন বর্তমান ভবনটি ঢাকা গভঃ মুসলিম হাই স্কুলের নামে বরাদ্দ দেন।
১৯৭৯ সালে অত্র স্কুলে প্রথম পুনর্মিলন অনুষ্ঠিত হয়,স্কুল ছাত্র ও শিক্ষক জনাব আব্দুর রশিদ এর নেতৃত্বে। এরপর যথাক্রমে ১৯৮২ সালে আহবায়ক জনাব,আব্দুর রশিদ ও জনাব মোহাম্মদ আলী দুলু(১৯৭৩)সদস্য সচিব হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন।সেই সময়ে জনাব,আব্দুর রশিদ অ্যালামনাই এসোশিয়েশন করার চেষ্টা করেন।কিন্তু কতিপয় মতবিরোধ থাকার কারণে পিছিয়ে যান।এবং তাঁর অনুসারীদের সময় সুযোগ মতো অ্যালামনাই এসোসিয়েশন গড়ার আশা ব্যক্ত করেন।মতবিরোধের কারণে দীর্ঘ ২৮ বছরে আর কোনো পুনর্মিলন হয়নি।২০১১ সালে কতিপয় উদ্যোগী ছাত্রদের ঐকান্তিক চেষ্টায় জনাব,সৈয়দ জাহাঙ্গীর (১৯৬৫) কে আহবায়ক ও জনাব, মোঃ সোলেমান ইসলাম বাপ্পি (১৯৯৮) কে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি করা হয়।তাদের নেতৃত্বে ২০১২ সালে তৃতীয় পুনর্মিলন অনুষ্ঠিত হয়।এরপর ২০১৬ সালে পুনরায় পুনর্মিলন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উদ্যোগ গ্রহন করে ২০০৭ ব্যাচের মোহাম্মদ আলী রুবেল, শাওন চৌধুরী সজিব ও আজিজুল হক রাজু।
এই উদ্যোগী প্রাক্তন ছাত্রগন বেশ কিছু প্রাক্তন ছাত্রদের নিয়ে একটি কমিটি করার জন্য সভার আয়োজন করে।এরকম একটি সভায় স্কুলের সহকারী শিক্ষক জনাব,আবুল বাসার সাহেবের উপস্থিতিতে কমিটি করতে চাইলে আহ্বায়কের জন্য নির্বাচন চান উপস্থিত প্রাক্তন ছাত্রগন।এবং উপস্থিত ছাত্রদের মধ্যে তিনজন প্রার্থী হন,জনাব,সৈয়দ জাহাঙ্গীর - ১৯৬৫ ব্যাচ,জনাব,কাজী ফিরোজ সামদানী পাবলু-১৯৭৬ ব্যাচ ও জনাব,আহমেদ শরীফ-১৯৯২ ব্যাচ। নির্বাচন পরিচালনা করছিলেন জনাব, আবুল বাসার সহকারী শিক্ষক ও সৈয়দ মানোয়ার আলী- ১৯৮২ ব্যাচ।ধারাবাহিক ভাবে উপস্থিত প্রাক্তন ছাত্রগন নাম বলবেন বাসার স্যার কাউন্ট করবেন। প্রথম ভোট দিতে দাড়িয়ে ৭৩ ব্যাচের জনাব শওকত আলী বলেন আমি ভোট দিব, মনোয়ার'কে। তখন স্টেজ থেকে মানোয়ার বলেন আমি তো প্রার্থী না, প্রার্থীকে ভোট দিন।কিন্তু জনাব শওকত আলী অনড় থাকেন সিদ্ধান্তে।এরপরে একে একে ১৭ টি ভোট পান জনাব,সৈয়দ মানোয়ার আলী, ৭ টি ভোট পান জনাব, সৈয়দ জাহাঙ্গীর, ৫টি ভোট পান জনাব, কাজী ফিরোজ সামদানী পাবলু এবং ১টি ভোট পান জনাব আহমেদ শরীফ।
এরপর সদস্য সচিব ভোটে প্রার্থী হন,জনাব, মোহাম্মদ আরিফ -১৯৯৩ ব্যাচ, ও জনাব,মোহাম্মদ আলী রুবেল -২০০৭ ব্যাচ।সেখানে ২১ ভোট পান মোহাম্মদ আলী রুবেল ও ১১ ভোট পান মোহাম্মদ আরিফ।
এখানে নির্বাচিত আহবায়ক ও সদস্য সচিব হিসাবে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করে তাদের নেতৃত্বে ২০১৭ সালে চতুর্থ পুনর্মিলন অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়।
এযাবৎকালের মধ্যে অনুষ্ঠেয় অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২০১৭ সালের অনুষ্ঠানকে সবদিক বিবেচনায় সর্বশ্রেষ্ঠ বিবেচনা করা হয়।২০১৭ সালের পুনর্মিলন উদযাপন কমিটির উদ্যোগে ঢাকা গভঃ মুসলিম হাই স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন প্রস্তুতি কমিটি গঠিত হয় এবং পুনর্মিলনের ইতিহাসে এই প্রথম অনুষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থে অ্যালামনাই এসোসিয়েশন এর নামে ৮ লক্ষাধিক টাকার বিশাল ফান্ড এফডিআর করা হয়েছে।
ঢাকা গভঃ মুসলিম হাই স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন প্রস্তুতি কমিটির উদ্যোগে প্রাক্তন ছাত্রদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ঢাকা গভঃ মুসলিম হাই স্কুল "অ্যালামনাই এসোসিয়েশন" গঠন ও সদস্য সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত আটশতাধিক সদস্য অ্যালামনাই এসোসিয়েশন এর সদস্যপদ গ্রহন করে ভোটার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা গভঃ মুসলিম হাই স্কুলের ইতিহাসে এই প্রথম অ্যালামনাই এসোসিয়েশন গঠন ও সর্বপ্রথম নির্বাচিত "ঢাকা গভ.মুসলিম হাই স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন" গঠিত হলো গত ১৫ জানুয়ারী -২০২১ রোজ শুক্রবার সকাল ৯ টা হতে বেলা ৩ টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে। এবং ১৯ মার্চ সকল নির্বাচিত সদস্যগন শপথ গ্রহণ করে দ্বায়িত্বু বুঝে নেন।